Author: সূর্যবাণী ডেস্ক

ছুটির দিন। সকাল থেকেই বোডসি সৈকতে বেড়াতে আসছে মানুষজন। বাবার সঙ্গে ছয় বছর বয়সী স্যামি শেল্টনও এসেছে। স্যামির বাবা পিটার সৈকতে গা এলিয়ে দিলেন। স্যামি কি আর বসে থাকার পাত্র! সমুদ্রের তীরে ছোটাছুটি করতে করতে কুড়াতে লাগল শামুক, ঝিনুক, পাথর, আরও কত কী। এত দূর পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু হুট করে বালুকাবেলায় একটা দাঁত খুঁজে পেল স্যামি! শুনে হয়তো বলবেন, এ আর এমন কী! দাঁত তো আমারও আছে। তা ঠিক দাঁত আমাদের সবারই আছে, তবে কিনা এই দাঁতটা আকারে একটু বড়। লম্বায় চার ইঞ্চি। দাঁতটা নিয়ে তাই বাবার কাছে ছুটে গেল স্যামি। জানতে চাইল, এটা কী? পিটার আগে হাঙরের…

Read More

‘আন্ডার দ্য তাস্কান সান’ সিনেমার দৃশ্যে অভিনেত্রী ডায়ানা লেন। ইতালির তাস্কানি প্রদেশের ছোট্ট এক পাহাড়ি গ্রাম কর্টোনার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছিল ছবিটিছবি: সংগৃহীত ভিনদেশি এক গ্রামে ভর দুপুরবেলায় হঠাৎ আমার মনে হলো, মার্কেজ বোধ হয় সত্যি। না… মানে…বলছি যে মার্কেজের অন্তত একটা ছোটগল্পকে আমি যেন চোখের সামনে স্পষ্ট দেখলাম। সেই গল্পের কথা বলছি, যে গল্পে দুই ভাই আলো দিয়ে পুরো ঘর ভর্তি করে ফেলল। এরপর আলোর ঢেউয়ে তারা নৌকা বাইছে। এদিকে শহরজুড়ে জলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে উদ্ভাসিত ঢেউ। যে গ্রামের কথা বলছিলাম, সেখানে রোদ এমন জলের মতো। মনে হয় রোদকে কেউ জলরং বানিয়ে ছবি এঁকেছে। রোদের তীব্রতা নেই, তবে ঝকঝকে…

Read More

গা পোড়ানো রোদ, অনেক রোদের মচ্ছব, রোদে রোদে যেন ঘুড়ির মতো কাটাকুটি খেলা চলে সেখানে—অনবরত। দিগন্তবিস্তৃত বালুর ওপর প্রতিফলিত হয়ে সূর্য হয়তো চিকচিক করে ওঠে। বালু আর সূর্য মিলে প্রকৃতিতে মুহূর্তেই যে চকমক করা সোনার গয়না তৈরি হয়, তা–ই কি চিলমারী—চিলমারীর বন্দর? বন্দর মানে তো সেখানে জলের গল্পও থাকে, আসে সার সার নৌকা এবং নাওভরা মানুষজনের সুখ–দুঃখের ইতিবৃত্ত। চিলমারী বন্দরে ব্রহ্মপুত্র নদের ঢেউয়ে ঢেউয়ে কতশত গল্প ভেসে বেড়ায় রোদের মতো, সেসব গল্পেও চলে মারদাঙ্গা কাটাকুটি খেলা! কোনো একসময়, কালে কালে গল্পগুলো ইতিহাস হয়ে নেমে পড়ে স্থলে—বালুতে। ১৯৪৬ সাল। চিলমারী বাজারের তৎকালীন রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে সবে গানের আসরের ইতি টেনেছেন কিংবদন্তি…

Read More

২০২৪ সালের বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বুকার পুরস্কারের ৫৫ বছরের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নারী প্রতিনিধিত্ব করছেন। এবার যে ছয়জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে, তার মধ্যে পাঁচজনই নারী; যেখানে প্রথমবারের মতো নেদারল্যান্ডসের কোনো লেখক জায়গা পেয়েছেন। সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন যুক্তরাষ্ট্রের পার্সিভাল এভারেট (জেমস), যুক্তরাজ্যের সামান্থা হার্ভ (অরবিটাল), যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যাচেল কুশনার (ক্রিয়েশন লেক), কানাডার অ্যান মাইকেলস (হেল্ড), নেদারল্যান্ডসের ইয়েল ভ্যান ডার উডেন (দ্য সেফকিপ) ও অস্ট্রেলিয়ার শার্লট উড (স্টোন ইয়ার্ড ডেভশন)। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত ১৫৬টি বই থেকে বাছাই করে প্রথমে ১৩টি বইয়ের দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাকে বলা হয় ‘বুকার ডজন’।…

Read More

নীল আকাশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ঘন সবুজ গাছগুলোও দিনের আলো–আঁধারে বিমূর্ত বনের রূপ নেয়। অমিতাভ সরকার চিরপরিচিত সেই বনের উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন ক্যানভাসে। সুন্দরবনের ছায়ায় বেড়ে ওঠা অমিতাভ যাত্রা করেছেন নদীমাতৃক কাদামাটির বদ্বীপ থেকে লাদাখের শুষ্ক পাহাড় পর্যন্ত। নানা ভূগোলে পরিবর্তিত প্রকৃতির রূপসুষমা ফুটে উঠেছে তরুণ এ শিল্পীর কাজে। ‘অ/প্রাসঙ্গিক’ শিরোনামে তাঁর চিত্রপ্রদর্শনীতে বিকেলের হলুদ আলো আর বনের অন্ধকারময় কালোরই প্রাধান্য। এ যেন প্রকৃতির নানান সময়ের নানান রঙের মধ্য দিয়ে একান্ত নিজের সঙ্গে সংযোগ ঘটানোর চেষ্টা। কাদা, মাটি, সবুজ, নীল, পানির গতি, মাটির ফাটল, মাটিলেপা ঘরে গৃহিণীর হাতের স্পর্শ, শহরের জমকালো বাস্তবতা আর বনের অন্ধকার—এসব প্রতীক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শিল্পী…

Read More

প্রায় ১০ বছর ধরে সেলিম রেজা পিন্টুর ঘরের প্রতিটি জিনিস একই রকম করে রাখা। বরফের মতো জমে যাওয়া সময়ের একটি বিষণ্ন ছবি। ১১ ডিসেম্বর ২০১৩। সেদিন তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। দুঃসহ অপেক্ষায় এতগুলো দিন গেল। তবু প্রতিটি কড়া নাড়ার শব্দে পুরো পরিবার ছুটে যায় দরজায়। এই বুঝি তিনি ফিরেছেন। সেদিন থেকে আজ অব্দি তাঁর কোনো খোঁজ নেই। পিন্টু গুমের শিকার। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাপ্তরিক তথ্যমতে, বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে এমন সাত শর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা কত কে জানে! বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনীকক্ষে চলছে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত তরুণ আলোকচিত্রী ও নৃতাত্ত্বিক গবেষক…

Read More

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের গ্যালারিতে ঢুকেই মনে হলো, মাসুদুর রহমানের চিত্রকর্মগুলো যেন মেঘের মতো; ঘন ও ঘোর লাগা। কখনো আবার নদীর মতো—বহমান ও স্রোতস্বিনী। দূর থেকে দেখলে প্রথমে কিছুটা অস্পষ্ট, কিন্তু কাছে গেলে প্রকট হয় চিত্রকর্মে ফুটে থাকা মুখ, শরীর, মানুষ ও তাদের যাপন। কখনো চারকোলে, কখনো অ্যাক্রিলিকে, কখনো চায়ের সঙ্গে কালির আঁচড়ে তিনি এঁকেছেন ‘জীবন ও শূন্যতার বুনন’, ‘ছায়াদের কথোপকথন’, ‘মহাকালের অশ্বারোহী’, ‘পদ্মসরোবর’ এবং আরও নানা চিত্রকর্ম। চারকোলের সঙ্গে তেলরং মিলিয়ে এঁকেছেন ‘হৃদয়ের ছায়াপথে’ নামের চিত্রকর্ম। দর্শককে দুদণ্ডের জন্য হলেও ছবিটির সামনে দাঁড়াতে বাধ্য করবে। শিল্পী তাঁর প্রদর্শনীর নাম দিয়েছেন ‘মহাকালের যাত্রা’। শিল্পীর নিসর্গচিত্রেও লক্ষ করা যায় একই অক্ষিবিভ্রম। দূর থেকে…

Read More

নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি সম্মতি উৎপাদন। সে কারণে সর্বত্র তাকে ভয়ের সংস্কৃতি জারি রাখতে হয়। বিগত স্বৈরাচারের আমলে বাংলাদেশের মানুষ তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছে, কিন্তু মুখ ফুটে বলার ভাষা ছিল না। কিছু কথা হয়েছে প্রতীকী উচ্চারণে। ক্লোজেট ল্যান্ড তেমনই একটি প্রযোজনা। ‘অপেরা’ অপেক্ষাকৃত নবীন নাট্য সংগঠন। গত বছরের ডিসেম্বরে তারা মঞ্চে এনেছে তাদের ১৫তম প্রযোজনা রাধা ভরদ্বাজ রচিত, নাহিদ স্মৃতি অনূদিত ও সাজ্জাদ সাব্বির নির্দেশিত এ নাটক। নাটকের বিষয় মানবাধিকার। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাট্যকার রাধা ভরদ্বাজ নিজে এর চলচ্চিত্রায়ণে (১৯৯১) নির্দেশনা দিয়েছেন এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর বিপণনে যুক্ত হয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে এটি মঞ্চায়নের যে ক্ষেত্র তৈরি করেছে, তারই…

Read More

সাহিত্য কীভাবে কাজ করে? কীভাবেই–বা সাহিত্য জনতার মুখে প্রতিরোধের ভাষা দেয়? এসব প্রশ্নের তত্ত্বতালাশ করে শিল্প–সাহিত্যের চৌহদ্দিতে ফিরে দেখা। নীরবতা মানেই কি ভাষাহীনতা? নাকি নীরবতারও ভাষা আছে? এই তর্ক পুরোনো, আবার এক অর্থে নতুনও। আজকের বাংলাদেশে বসে মনে হচ্ছে, সরবতা ও নীরবতার ভাষাকে বোঝা দরকার। এখন দেখতে পাচ্ছি, ভাষার জোয়ার বইছে। দেয়ালে, ফুটপাতে, রাস্তায়, ব্যারিকেডে ফুটে উঠছে নানা রঙের অক্ষর। যেন এক শতাব্দীর নীরবতা ভেঙে মানুষ কথা বলতে চাইছে। তাহলে মানুষ কি কথা বলেনি? নিশ্চয়ই বলেছে; কিন্তু বলার আগে গিলে ফেলতে হয়েছে একটি-দুটি শব্দ, লিখতে লিখতে ব্যাকস্পেস দিয়ে মুছে ফেলতে হয়েছে দুটি-তিনটি বাক্য। না-বলা ও না-লেখা কথাগুলো ঠাঁই নিয়েছে মনের…

Read More

বুকার পুরস্কারজয়ী ভারতীয় লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট অরুন্ধতী রায়ের প্রথম স্মৃতিকথা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। মাদার মেরি কামস টু মি নামের এই স্মৃতিকথার বইটি ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছেন হামিশ হ্যামিলটনের প্রকাশনা পরিচালক সাইমন প্রসার। বইটিতে অরুন্ধতী রায় তাঁর মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, শৈশব থেকে বর্তমান এবং কেরালা থেকে দিল্লি যাওয়ার বিষয়গুলো তুলে এনেছেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মায়ের মৃত্যুর পর স্মৃতিকথা লিখতে শুরু করেন এই লেখক। ১৮ বছর বয়সে তিনি মায়ের কাছ থেকে পালিয়েছিলেন। সেই অনুভূতির কথাই লিখেছন এই বইয়ে। অরুন্ধতী রায় বলেন, ‘আমার জীবনের ঘটনা নিয়ে বইটি লিখেছি। আমার মায়ের হয়তো মেয়ে হিসেবে আমার মতো একজন লেখক দরকার ছিল।…

Read More