সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) আরও ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেবে। এতে ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
এই টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি (ডিও) পত্র দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ টাকা কোন খাত থেকে জোগান দেওয়া হবে, সে উপায় খুঁজছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কোনো খাত থেকে এই টাকা দেওয়া হবে, নাকি বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভা করার কথা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই টাকা কোত্থেকে আসবে, সে সিদ্ধান্ত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই আসতে হবে।
অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পত্র
গত ৩১ মার্চ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আধা সরকারি পত্র দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এই পত্রে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মূল বাস্তবায়ন শুরু হবে। আগামী অর্থবছরে সারা দেশে ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন।
নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নসহ সামাজিক ন্যায় অর্জনের বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার বলে আধা সরকারি পত্রটিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এর অংশ হিসেবে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলটি নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। গত ১০ মার্চ রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইলট প্রকল্পে আপাতত ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরের অর্থবছরে দরকার হবে আরও ১৩ হাজার কোটি টাকা।


