ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে টানা কয়েক সপ্তাহের প্রচার-প্রচারণা শেষে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭ টা থেকে ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ‘রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যে একটি মরিয়া লড়াই’ বলছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ব্যবস্থার কড়াকড়িকে অনেকেই ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’ বলে অভিহিত করছেন।
এ দিন পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাডুতেও বিধানসভা নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, সকাল থেকেই ১৬ জেলার বিভিন্ন বুথের বাইরে ভোটারটা লাইন দিতে শুরু করেন। এসব জেলাগুলো হল উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পঙ, দার্জিলিঙ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ; দক্ষিণ বঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ায়, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম। এসব জেলার ১৫২টি আসনে ভোটে হচ্ছে আর মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ৬০ লাখ।
এনডিটিভি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে যে ১৫২টিতে ভোট হচ্ছে তার অন্তত ৮০টিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে সিপিএমের ৩৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর থেকে টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে ভারতীয় কংগ্রেসের দলছুট অংশটি। অনেকে বলছেন, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারই সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
২০২১ এর নির্বাচনেও এ দুইপক্ষের মধ্যে একই ধরনের লড়াই হয়েছিল। সেবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সেরা ফলাফল দেখিয়ে ২১৫টি আসন জিতে নিয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন।
রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের এ আধিপত্যে ভাগ বসাতে শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও উন্নয়নের অপ্রতুলতা তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। এভাবে এগিয়ে থাকা তৃণমূলের সঙ্গে তারা ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনতে পেরেছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। উন্নয়নে পিছিয়ে থাকার জন্য তৃণমূল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তহবিল আটকে রাখাকে দায় দিয়েছে।
তবে এই দুই দলের তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এবার ভোটের নিরাপত্তায় ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ নিরাপত্তা কর্মী ভোট কেন্দ্রের তদারকিতে নিয়োজিত হয়েছেন। এভাবে নজিরবিহীন নিরাপত্তার আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন রাজ্যটিকে একটি দুর্গে পরিণত করেছেন বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।
আগামী ২৯ এপ্রিল বিধানসভার দ্বিতীয় পর্বের ভোট গ্রহণ করা হবে। ৪ এপ্রিল ভোট গণনা করার কথা রয়েছে।


